পুরস্কার-তিরস্কারের নীতিতে পুলিশকে জনমুখী করা হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পুরস্কার-তিরস্কারের নীতিতে পুলিশকে জনমুখী করা হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : June 08, 2026

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বর্তমান সরকার ‘শিষ্টের পালন ও দুষ্টের দমন’ এবং ‘পুরস্কার ও তিরস্কার’ নীতিতে বিশ্বাসী। এই নীতির আলোকে পুলিশ সদস্যদের নৈতিক মনোবল বৃদ্ধি করে বাহিনীকে আরও সেবামুখী ও জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সাম্প্রতিক তিনটি আলোচিত ঘটনায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভালো কাজের স্বীকৃতি ও অনিয়মের জন্য জবাবদিহিতার সংস্কৃতি পুলিশ সদস্যদের আরও কর্তব্যপরায়ণ, আন্তরিক ও ন্যায়নিষ্ঠ হতে উৎসাহিত করবে। মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের তাৎক্ষণিকভাবে উৎসাহিত করতেই মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে তিনটি বিশেষ কৃতিত্বপূর্ণ ঘটনায় মোট ১৫ জন পুলিশ সদস্যকে সনদ ও আর্থিক পুরস্কার প্রদান করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়। এছাড়া তিনজন নৌ পুলিশ সদস্যকে আইজি ব্যাজ (IG Badge) প্রদান করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের ৫ আগস্টের পর পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে সরকার সফল হয়েছে। বর্তমানে পুলিশ আগের তুলনায় বেশি জনবান্ধব এবং জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের তুলনায় বর্তমান সময়ে দেশের অপরাধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের বিষয়ে তিনি বলেন, টিআইবি সরকারি সংস্থা নয় এবং মাঠপর্যায়ে তদন্ত ছাড়াই বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রিপোর্ট তৈরি করে। তবে গণমাধ্যমে প্রকাশিত যেকোনো তথ্য সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বলে জানান তিনি।

মামলা তদন্তে বরাদ্দের সীমাবদ্ধতার বিষয়টি স্বীকার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতীয় বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণে তদন্ত ও পোস্টমর্টেম খাতে বরাদ্দ পুরোপুরি পর্যাপ্ত নয়। তবে ভবিষ্যতে তদন্ত কার্যক্রম, পোস্টমর্টেম ও পুলিশি টহল আরও কার্যকর করতে বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

পলাতক ও শৃঙ্খলাভঙ্গকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো ধরনের অনুকম্পা দেখানো হবে না। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে এবং তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আইন অনুযায়ী অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

পুরস্কারপ্রাপ্ত ঘটনাগুলোর মধ্যে ছিল রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার দ্রুত তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় সহায়তা, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস থেকে অন্তত ৫০ জনের প্রাণ রক্ষায় নৌ পুলিশের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ক্লুলেস কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ, মো. আলী হোসেন ফকির, মোসলেহ উদ্দিন আহমদসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Share This