জানুয়ারি-মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারাজের কাজ শুরু হবে: পানিসম্পদমন্ত্রী

জানুয়ারি-মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারাজের কাজ শুরু হবে: পানিসম্পদমন্ত্রী

রাজবাড়ী প্রতিনিধি : September 12, 2026

আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারাজ নির্মিত হলে শুধু রাজবাড়ী নয়, দেশের ২৪টি জেলার প্রায় ৭ কোটি মানুষ এর সুফল পাবেন।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজবাড়ীর পাংশার হাবাসপুরে কে রাজ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভায় যোগ দেওয়ার আগে মন্ত্রীসহ অতিথিরা হাবাসপুরে পদ্মা ব্যারাজের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করেন।

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণে অন্তত ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ২৪টি জেলার অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। কৃষিতে উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও মাছের উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি পানিবিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে কারিগরি সমীক্ষা ও সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। ২০০৪ সাল থেকে এ বিষয়ে কারিগরি সমীক্ষার কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালে এসে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য একনেকের অনুমোদন পাওয়া গেছে। এখন দীর্ঘদিনের এই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেওয়ার সময় এসেছে।

পদ্মা ব্যারাজকে সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী বলেন, আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি অথবা মার্চের মধ্যে যেকোনো সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাবাসপুরে এসে প্রকল্পটির উদ্বোধন করবেন। একই সঙ্গে পাবনার সুজানগরেও একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলে কৃষিবিপ্লব ঘটবে। কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির নানা সুযোগ-সুবিধা যুক্ত হবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারাজের মূল অংশের দৈর্ঘ্য হবে ২ দশমিক ১ কিলোমিটার। এতে ৭৮টি স্পিলওয়ে, ১৮টি আন্ডারস্লুইস, দুটি ফিশ পাস, নেভিগেশন লক ও বিশেষ পাইড বাঁধ থাকবে।

প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া দুই ধাপে দুটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

জনসভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বর্তমান বাস্তবতার আলোকে পদ্মা ব্যারাজের নকশা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, পানামা খালের চেয়েও বড় পরিসরে ও স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে।

তিনি বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটসহ দেশের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে বেকারত্ব দূর করতে কর্মসংস্থানমুখী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিতুমীর আরও বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, পদ্মা ব্যারাজ ও হাওর অঞ্চলের উন্নয়নসহ দেশের অবহেলিত এলাকাগুলোর উন্নয়নে কাজ চলছে। শিক্ষাব্যবস্থায়ও বড় ধরনের পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে কর্মসংস্থান উপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।
 

অনুষ্ঠানে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য হারুন-অর-রশিদ, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আসলাম মিয়াসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

এ সময় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব এ কে এম শাহাবুদ্দিন, জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Share This