স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নতুন নিয়ম-কানুনের খসড়া প্রস্তুত

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নতুন নিয়ম-কানুনের খসড়া প্রস্তুত

নিজস্ব প্রতিবেদক : May 22, 2026

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পোস্টার ব্যবহার থাকছে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।

 

এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিধিতে যেসব গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে, এর মধ্যে একটি হলো এই নির্বাচনে পোস্টার থাকবে না। আমরা নির্বাচন কমিশন (ইসি) স্থানীয় সরকার নির্বাচন পোস্টার না রাখার পক্ষে।’

 

স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিধিমালায় সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে এই জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার বলেন, সংশোধিত বিধিমালায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

 

তিনি জানান, অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের বর্তমান বিধান বাতিল করা হবে। একইভাবে ইভিএম ব্যবহারের নিয়মও থাকছে না। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে। ফলে দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা যাবে না।

বর্তমানে নির্দলীয় প্রার্থীদের জন্য সমর্থন হিসেবে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দেওয়ার যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেটিও বাতিল করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া উপজেলা নির্বাচন ছাড়া স্থানীয় সরকারের অন্যান্য সব স্তরের নির্বাচনে জামানতের পরিমাণ বাড়ানো হবে। তবে কী পরিমাণ বাড়বে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।

আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রবাসী ভোট বা পোস্টাল ভোটের কোনো ব্যবস্থা থাকছে না। একই সঙ্গে ফেরারি আসামিরাও প্রার্থী হতে পারবেন না। বিশেষ করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের মামলায় চার্জশিটভুক্ত কেউ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।

 

তিনি বলেন, নির্বাচনকে নিরপেক্ষ, অবাধ, সুন্দর ও সুষ্ঠু করতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার কাজ চলছে।

ঈদের পর সংশোধিত বিধিমালা চূড়ান্ত হবে জানিয়ে তিনি বলেন, জুন মাসের মধ্যেই পুরো বিধি প্রণয়নের কাজ শেষ হবে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে একটি বৈঠক হয়েছে। ঈদের আগে আরেকটি বৈঠক করা গেলে খসড়া বিধিমালা কমিশনে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে শুরু হতে পারে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চলতি বছরের শেষ দিকে নির্বাচন শুরু হতে পারে। কমিশন আগামী অক্টোবর থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে পারবে বলে আশা করছে।

সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে চারটি বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এই জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার।

প্রথমত, সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি বলেন, সরকার কী চায় এবং তাদের দৃষ্টিভঙ্গি কী-সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য সরকারকে অবশ্যই নিরপেক্ষ থাকতে হবে।

দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক দলগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি। তারা কী চায়? তারা কি মারামারি-হানাহানির পথে যাবে, নাকি দেশের স্বার্থে দায়িত্বশীল আচরণ করবে? তিনি বলেন, নির্বাচনে প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু সংঘর্ষ নয়।

 

 

তিনি জানান, রাজনৈতিক দলগুলোকে দলগতভাবে অনুরোধ জানানো হবে যাতে তারা-নির্বাচনি পরিবেশ উত্তপ্ত না করে, মারামারি, ভাঙচুর, ধাক্কাধাক্কি বা লাঠালাঠি থেকে বিরত থাকে। দলবাজি বা উত্তেজনা তৈরির প্রচেষ্টা না চালায়।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সহযোগিতা না করলে আমরা কী করব? খেলোয়াড় যদি সারাদিন ফাউল করে, রেফারি কয়টা ফাউল ধরবে?’

তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় দুটি রাজনৈতিক জোট আচরণবিধি মেনে চলেছে। ভোটের দিন বড় কোনো ঝামেলা, কেন্দ্র দখল বা ব্যালট ছিনতাইয়ের ঘটনা খুব কম হয়েছে। এজন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে কৃতিত্ব দেওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। রিটার্নিং অফিসার, প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং স্টাফরা স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।

তবে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ভেজাল ধরা পড়লে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি। তিনি জানান, প্রয়োজনে ভোটকেন্দ্র বন্ধ করার ক্ষমতা; আইন ও বিধিমালায় রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু হবে।’

Share This