নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে ‘মুন অ্যালার্ট’ সেবা চালু

নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে ‘মুন অ্যালার্ট’ সেবা চালু

নিজস্ব প্রতিবেদক : January 14, 2026

নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত খুঁজে পেতে ও অপহৃতদের উদ্ধারে চালু হলো বিশেষ সেবা ‘মিসিং আর্জেন্ট নোটিফিকেশন’ বা মুন অ্যালার্ট। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও অ্যাম্বার অ্যালার্ট ফর বাংলাদেশ যৌথভাবে এই সেবা চালু করেছে। একই সঙ্গে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে নিখোঁজ শিশু-সংক্রান্ত টোল ফ্রি হেল্পলাইন ১৩২১৯।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে সিআইডিপ্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ছিবগাত উল্লাহ বলেন, ২০২৪ সালে সিলেটে অপহরণের পর হত্যার শিকার শিশু মুনতাহার স্মরণে এই অ্যালার্ট সিস্টেমের নাম ‘মুন অ্যালার্ট’ করা হয়েছে। এর আওতায় কোনো শিশু নিখোঁজ বা অপহৃত হলে যাচাই তথ্যের ভিত্তিতে সিআইডি জরুরি সতর্কবার্তা জারি করবে। এই বার্তা দাপ্তরিক ওয়েব পোর্টাল ও মোবাইল অ্যাপের পাশাপাশি অনলাইন ও অফলাইন সংবাদমাধ্যম, সামাজিক মাধ্যম, ডিজিটাল বিলবোর্ড, প্রয়োজন অনুযায়ী মোবাইল এসএমএস/সেল ব্রডকাস্টিংসহ অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর মাধ্যমে প্রচার করা হবে। যাতে সাধারণ মানুষ দ্রুত তথ্য দিয়ে উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে।

পুরো প্রক্রিয়ায় শিশুর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। এখন থেকে দেশজুড়ে কোনো শিশু নিখোঁজ হলে সিআইডির হটলাইন নম্বর ১৩২১৯-এ কল করে জানানো যাবে। এ ছাড়া মুন অ্যালার্ট নামের ওয়েবসাইটেও (munalert.org) নিখোঁজ শিশুর তথ্য রিপোর্ট করা যাবে। শিশু নিখোঁজ হওয়ার পরবর্তী তিন ঘণ্টাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে সিআইডি।অতিরিক্ত আইজিপি বলেন, নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারে সিআইডিতে বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে। অ্যালার্ট জারির সঙ্গে সঙ্গে ফেসবুক, টিকটক, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ওই নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছে যাবে। মেট্রোরেল স্টেশন, এটিএম বুথ ও ব্যাংকের ডিজিটাল স্ক্রিনেও নিখোঁজ শিশুর ছবি ও তথ্য ভেসে উঠবে। এমনকি মসজিদের মাইক ব্যবহার করেও প্রচারের ব্যবস্থা করা হবে।


অনুষ্ঠানে অ্যাম্বার অ্যালার্ট ফর বাংলাদেশের আহ্বায়ক সাদাত রহমান বলেন, ২০২৪ সালে শিশু মুনতাহা নিখোঁজ হওয়ার সাত দিন পর তার লাশ উদ্ধার হয়। তখন থেকেই আমরা ভাবছিলাম, যদি তাৎক্ষণিক কোনো অ্যালার্ট সিস্টেম থাকত, তবে হয়তো তাকে বাঁচানো যেত। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়েটেড চিলড্রেনের (এনসিএমইসি) সহযোগিতায় আমরা এই প্রযুক্তিগত কাঠামো দাঁড় করিয়েছি। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাম্বার অ্যালার্ট, মালয়েশিয়ার নুর অ্যালার্ট বা পাকিস্তানের জয়নাব অ্যালার্টের আদলে বাংলাদেশে ‘মুন অ্যালার্ট’ কাজ করবে। আগামী মার্চ থেকে ফেসবুকের সহায়তায় ফিচারটির ব্যাপ্তি আরও বাড়ানো হবে।


সিআইডি জানায়, নিখোঁজ শিশু-সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯, মিসিং চিলড্রেন সেল–০১৩২০০১৭০৬০ বা ২৪ ঘণ্টা টোল ফ্রি হেল্পলাইন ১৩২১৯-এ জানানো যাবে। 

Share This